পলিথিনে মোড়ানো সেই নবজাতকের মিলল মা-বাবা, পেল নতুন ঠিকানা

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুর জীবনে অবশেষে এসেছে নতুন অধ্যায়।

অযত্ন-অবহেলার অন্ধকার পেরিয়ে শিশুটি পেয়েছে নতুন মা-বাবা, পেয়েছে একটি নিরাপদ ঠিকানা ও আপন করে নেওয়া একটি পরিবার।

বিভিন্ন আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক ও তাঁর স্ত্রীর জিম্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘মায়া সংঘ’ গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুটিকে নতুন বাবা-মায়ের কাছে তুলে দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই ভোরে বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাখালী এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ওই অটোরিকশাচালকের পরিবার।

উদ্ধারের পর শিশুটির চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ডেকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন তাঁরা।

এরপর কেটে যায় প্রায় দুই সপ্তাহ। এই অল্প সময়েই শিশুটিকে ঘিরে তৈরি হয় এক গভীর মায়া।

যে শিশুটিকে তাঁরা কুড়িয়ে পেয়েছিলেন, সেই শিশুই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে পরিবারের আপনজন। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে পরিবারটি।

সামাজিক সংগঠন ‘মায়া সংঘের’ সভাপতি গিয়াস উদ্দীন আকবর চৌধুরী বলেন, শিশুটিকে যারা উদ্ধার করেছিলেন, সেই পরিবারটিই তাকে লালন-পালন করতে আগ্রহ দেখায়।

এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশুটিকে জিম্মায় নেওয়া অটোরিকশাচালক ও তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমরা শিশুটিকে লালন-পালন করে তার মায়ায় পড়েছি। তাই তাকে ছাড়তে মন চাইছিল না।’

তাঁদের কথায় স্পষ্ট, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মাত্র দুই সপ্তাহের যত্ন, স্নেহ আর ভালোবাসায় শিশুটিকে ঘিরে তাঁদের মনে তৈরি হয়েছে গভীর এক টান।

জানা গেছে, ওই দম্পতির পাঁচ মাস বয়সী একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে।

তবে নবজাতকটিকে লালন-পালনে তাঁদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বরং নতুন এই শিশুকে ঘিরে তাঁদের পরিবারে যোগ হয়েছে আরও এক নতুন আনন্দ।

এদিকে, শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন বলেন, ওই শিশুর বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হলে আমি ইউএনও ও সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিই।

এক ভোরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতকের জীবনের গল্প এখন নতুন মোড় নিয়েছে।

অনিশ্চয়তার পথ পেরিয়ে সে পেয়েছে একটি পরিবার, পেয়েছে আপন করে নেওয়া মানুষ। এখন নতুন মা-বাবার ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয়েই তার বেড়ে ওঠার অপেক্ষা।