ফটিকছড়িতে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে উপজেলার বাগান বাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের স্থানীয় এলাকাবাসীর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধ রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকা এ হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তর ফটিকছড়ির জনজীবন।
গহিরা-হেঁয়াকো সড়ক ও বারৈয়ারহাট-রামগড় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
একই সঙ্গে বাগান বাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের হাট-বাজার, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ফটিকছড়ির মির্জার হাট থেকে বাগান বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ তৈরি করা হয়েছে।
কোথাও সড়কের ওপর ফেলা হয়েছে গাছের গুঁড়ি, কোথাও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ট্রাক। আবার কোনো কোনো স্থানে পিকেটাররা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
সদর দপ্তর স্থাপনের স্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের মুখপাত্র ও বাগান বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের মানুষের সুবিধাজনক স্থানে করার দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি। আমাদের এ যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন।
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির ৩ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হচ্ছে। এলাকাবাসী বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে হরতাল পালন করছে।
এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।
তিনি জানান, থানা পুলিশের বাইরে অতিরিক্ত ৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সদর দপ্তর স্থাপনের স্থান নিয়ে স্থানীয়দের এ দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে এখন উত্তর ফটিকছড়িতে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি কতদূর গড়ায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়-এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।
