জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না-ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
তাই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করতে হবে-এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা লাভ করে।
এ আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক দলের একক প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের ফসল।
তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে ছিলেন।
চট্টগ্রামেও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
সেই প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন মেয়র।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও মামলার মুখোমুখি হয়েও বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই আন্দোলনের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
একইসঙ্গে আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে বিভেদ নয়, প্রয়োজন ঐক্য ও সম্প্রীতি। শহীদদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ‘আমার আন্দোলন’ নয়, ‘আমাদের আন্দোলন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলি।
