‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’র কণ্ঠ থেমে গেল, শোকে স্তব্ধ সংগীতাঙ্গন

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪৯

বাংলা লোকসংগীতের আকাশে যেন হঠাৎই নেমে এসেছে বিষাদের কালো মেঘ। শ্রোতাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে যিনি সুরের আবেশ ছড়িয়েছেন, সেই জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী স্বাগত দে আর নেই।

আকস্মিক অসুস্থতার সঙ্গে মাত্র তিন দিনের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন গুণী এই শিল্পী।

তার আকস্মিক প্রয়াণে বাংলা গান ও সংস্কৃতির অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতা।

গত ৩ আগস্ট সোমবার হঠাৎ সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন স্বাগত দে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই শিল্পী।

স্বাগত দে শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী ছিলেন না, বাংলা লোকগানের নিজস্ব আবহকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

তার কণ্ঠ ও পরিবেশনার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে লোকগান পেয়েছিল নতুন মাত্রা। ‘সোনা বন্ধু রে’ এবং ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’এর মতো জনপ্রিয় গান তার কণ্ঠে যেন পেয়েছিল আলাদা প্রাণ ও আবেগ।

সুরের সেই মায়াবী পরিবেশনাই দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিল। তার গানের মধ্যে দিয়ে লোকসংগীতের চেনা আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছেও নতুন রূপে ধরা দিয়েছিল।

ফলে তার চলে যাওয়া কেবল একজন শিল্পীর বিদায় নয়, লোকসংগীতের জগতের জন্যও এক বড় ক্ষতি।

স্বাগত দের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মী, শিল্পী ও পরিচিতজনেরা স্মৃতিচারণের পাশাপাশি জানিয়েছেন গভীর শোক ও শ্রদ্ধা।

গায়িকা জোজো স্বাগত দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, তারাদের দেশে ভালো থেকো স্বাগতদা। তার এই ছোট্ট অথচ আবেগঘন বার্তাতেই যেন ফুটে উঠেছে প্রিয় সহকর্মীকে হারানোর বেদনা।

অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীও স্বাগত দের প্রয়াণে নিজের শৈশবের স্মৃতি মনে করে শোক প্রকাশ করেছেন। তার স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে হারিয়ে যাওয়া এক পরিচিত ও প্রিয় মানুষকে ঘিরে আবেগের অনুরণন।

সমসাময়িক লোকশিল্পী দেব চৌধুরী স্বাগত দের এই প্রয়াণকে লোকসংগীতের জন্য এক বিরাট ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতো শিল্পীর চলে যাওয়া যে লোকগানের পরিসরে দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা তৈরি করবে, সেই কথাই যেন প্রতিধ্বনিত হয়েছে সহকর্মীদের শোকবার্তায়।

মানুষ চলে যায়, কিন্তু শিল্প থেকে যায়। স্বাগত দেও শারীরিকভাবে আর নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে প্রাণ পাওয়া গানগুলো থেকে যাবে শ্রোতাদের স্মৃতিতে।

‘সোনা বন্ধু রে’, ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’সহ তার গানের সুরে বারবার ফিরে আসবে সেই পরিচিত কণ্ঠ।

স্বাগত দের প্রয়াণ তাই শুধু একটি মৃত্যুসংবাদ নয়; এটি বাংলা লোকসংগীতের এক সুরেলা অধ্যায়ের আকস্মিক সমাপ্তি।

শিল্পী হারিয়ে গেলেও তার গান বেঁচে থাকবে—সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে, স্মৃতিতে এবং বাংলা লোকগানের সুরের ভুবনে।