কোপের পর ক্ষোভের আগুন: কর্ণফুলীতে মাদকবিরোধী সংগঠক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মো. মহিউদ্দিন (৩৬) নামে এক সামাজিক সংগঠককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মাদক কারবারি মুজিবুর রহমানের ভাড়া বাসা ও গোয়ালঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে গোয়ালঘরে থাকা একটি গবাদিপশু পুড়ে মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মাস্টারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

গুরুতর আহত মহিউদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি শিকলবাহার আহছানিয়া পাড়ায় সম্প্রতি গঠিত একটি মাদকবিরোধী সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কিছুদিন আগে আহছানিয়া পাড়ার স্থানীয় কয়েকজন যুবক মিলে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন।

সংগঠনটির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মহিউদ্দিন।

এ নিয়ে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মুজিবুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে আগেও তাদের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়াঝাঁটির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মাস্টারহাট এলাকায় মহিউদ্দিনের সঙ্গে মুজিবুর রহমানের প্রধান সহযোগী ইব্রাহিমের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে ইব্রাহিম ধারালো দা বের করে মহিউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে মুজিবুর রহমানের ভাড়া বাসায় গিয়ে হামলা চালায়। সেখানে ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে গোয়ালঘরে থাকা একটি গবাদিপশু আটকা পড়ে। পরে সেটি আগুনে পুড়ে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তারা জানান।

প্রায় দুই মাস জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও পুরোনো মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মুজিবুর রহমানের অনুসারী ইব্রাহিমের সঙ্গে মহিউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়।

এ সময় ইব্রাহিম আহত মহিউদ্দিনের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে চায়ের দোকান থেকে ইব্রাহিম ধারালো অস্ত্র (দা জাতীয়) দিয়ে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করেন।

ওসি বলেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিউদ্দিনের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিকলবাহার মাস্টারহাট এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।