কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর থেকে তিন দিনের বেশি সময় বন্ধ রাখা হবে।
এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনালটি ৮০ ঘণ্টা বন্ধ থাকলে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)।
রোববার (১ নভেম্বর) সামিটের জনসংযোগ দপ্তর থেকে টার্মিনাল বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিদ্যমান বড় ব্যবধানের মধ্যে এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা যায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি।
বর্তমানে এই সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে।
দুটি টার্মিনাল থেকে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে দৈনিক প্রায় ১ হাজার এমএমসিএফডি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ফলে এর যেকোনো একটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩১ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ এমএমসিএফডি।
এর মধ্যে দুটি এফএসআরইউ থেকে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হয় ৯৪৩ এমএমসিএফডি। বাকি গ্যাস আসে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, সামিটের টার্মিনাল ৮০ ঘণ্টা বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম এবং বাসাবাড়ির রান্নার কাজে।
দেশে যেখানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই অনেক কম, সেখানে এলএনজি সরবরাহের অন্যতম উৎস সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাসসংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
