আনোয়ারায় ভোজন বাড়িকে ৬০ হাজার, দুই রেস্তোরাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৯

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খাবারে অননুমোদিত রং ও রাসায়নিকের ব্যবহার, বাসি মুরগি সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে তিনটি রেস্তোরাঁকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাতুরী চৌমুহনী ও টানেল এলাকায় বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পায় অধিদপ্তর।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ভোজন বাড়ি রেস্তোরাঁকে। প্রতিষ্ঠানটিতে খাবারে অননুমোদিত রং, গোলাপজল ও কেওড়াজলের মতো উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাসি শর্মার মুরগি সংরক্ষণের দায়ে সাদিয়া’স কিচেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে একই এলাকার টানেল ভিউ রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা।

টানেল ভিউ রেস্তোরাঁয় খাবারে গোলাপজল ও কেওড়াজলের মতো রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি।

প্রতিষ্ঠানটির একই ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা বাসি খাবার রাখা হচ্ছিল, যা খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় আনোয়ারা থানা-পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, খাবার তৈরিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা প্রতিটি খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এর ব্যত্যয় পাওয়া গেছে। কোথাও খাবারে অননুমোদিত রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছিল, কোথাও বাসি খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

আবার একটি প্রতিষ্ঠানে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা বাসি খাবার একই ফ্রিজে রাখা হয়েছিল, যা খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যবিধি মেনে চলতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।