back to top

ভোক্তার স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি, আদালতের অভিযানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর অনিয়ম

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৫

চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কয়েকটি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম ও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে প্লাস্টিকের উপস্থিতি, পোড়া তেলের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

গত ২০ জুন নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ময়মনসিংহ এগ্রো-তে সরেজমিন পরিদর্শন করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

পরিদর্শনের সময় খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত উপাদান (প্লাস্টিক) ব্যবহার বা উপস্থিতি, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়া তেলের ব্যবহার, উৎপাদন এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্যের মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজনের মতো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।

এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে অবহেলা, উৎপাদন এলাকায় বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বর্জ্য পদার্থ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও খবরের কাগজ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং বিধিবহির্ভূত মোড়কীকরণসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা।

অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে দেশের ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর নেতারা।

রোববার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদালতের বাইরে সরেজমিনে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানায় ক্যাব।

একই সঙ্গে তারা মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমানসহ অন্য নেতারা।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ভোক্তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও বঞ্চনার শিকার হলেও সরকারের মাননিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত অনেক প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সেসবের কার্যকর প্রতিকার মিলছে না। এর ফলে খাদ্যবাহিত নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

তাঁরা দাবি করেন, নগরের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগীর চাপ খাদ্যনিরাপত্তা সংকটের একটি প্রতিফলন।

প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কোনো না কোনো সদস্যকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

ক্যাব নেতারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত আদালতের গণ্ডির বাইরে গিয়ে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে সরেজমিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, তা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকারসহ জনগণের অন্যান্য অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনায় আদালতের সক্রিয় ভূমিকা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।