স্কুল ব্যাগে বই থাকার কথা, মিলল ৮ হাজার ইয়াবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১৯:১৯

দেখতে একেবারে সাধারণ স্কুল ব্যাগ। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক চালান। ব্যাগগুলো যেন বই-খাতার নয়, বরং মাদকের গোপন ভাণ্ডার।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর। চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের কর্ণফুলী থানাধীন ক্রসিং এলাকার ফুলকলি নামের একটি দোকানের সামনে থামে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ‘সোদিয়া অ্যারো’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস।

সাধারণ দিনের মতোই চলছিল যাত্রীদের যাতায়াত। কিন্তু সেই বাসেই লুকিয়ে ছিল একটি বড় মাদক চালান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

জেলা কার্যালয় চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাসের তত্ত্বাবধানে এবং পরিদর্শক শেখ আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় বিশেষ অভিযান।

বাসে ওঠার পর কর্মকর্তাদের নজর গিয়ে পড়ে কয়েকজন যাত্রীর ওপর। এরপর শুরু হয় তল্লাশি।

এক পর্যায়ে এ-৩, এ-৪ ও বি-৪ নম্বর আসনে বসা তিন যাত্রীর কাছে থাকা স্কুল ব্যাগগুলো খোলা হয়। আর তখনই সামনে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য।

ব্যাগগুলোর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

মুহূর্তেই অভিযানস্থলে তৈরি হয় উত্তেজনা। উদ্ধার করা হয় পুরো চালান এবং ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় তিনজনকে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. আনোয়ার (২৫), মো. সোফাইদ (২৪) এবং মোহাম্মদ খান (২৩)। তারা সবাই কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা।

ডিএনসি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছেন যে, তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম শহরে এনে সরবরাহ করা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইয়াবা পাচারকারীরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।

কখনো লাগেজ, কখনো পণ্যবাহী যান, আবার কখনো সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে চালান বহন করা হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো স্কুল ব্যাগ।

ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপপরিদর্শক বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

তবে তদন্ত এখানেই থেমে নেই। ডিএনসি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ইয়াবা চক্রের মূল হোতা ও নেপথ্যের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই উদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ, স্কুল ব্যাগের মতো নিরীহ একটি জিনিসকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহনের ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল—মাদক কারবারিরা কৌশল বদলাচ্ছে, আর তাদের থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও থাকতে হচ্ছে এক ধাপ এগিয়ে।