বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সির মহিমায় নতুন করে উজ্জ্বল নেইমার

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ০৯:০৫

বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল তাকে ছাড়াই। ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার

ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে অপেক্ষা করতে হয়েছে, অপেক্ষা করেছে ব্রাজিলও। কিন্তু যত দীর্ঘই হোক প্রতীক্ষা, কিছু প্রত্যাবর্তন শুধু মাঠে ফেরা নয়—সেগুলো ইতিহাসের দরজায় নতুন করে কড়া নাড়া।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই মুহূর্তটি এলো দ্বিতীয়ার্ধে। বেঞ্চ ছেড়ে ৭৫ মিনিটে মাঠে নামলেন নেইমার।

বদলি হলেন ম্যাথিউস কুনহার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটাই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রথম উপস্থিতি।

আর মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্পর্শ করলেন এক বিশেষ মাইলফলক।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি এক ঐতিহ্য, এক উত্তরাধিকার।

সেই জার্সিতে বিশ্বকাপের ১৪তম ম্যাচ খেললেন নেইমার। ফলে তিনি জায়গা করে নিলেন দুই কিংবদন্তি—পেলে ও রিভালদোর পাশে।

ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিতে ১৪টি ম্যাচ খেলেছেন এখন মাত্র তিনজন ফুটবলার। চারটি বিশ্বকাপে পেলে খেলেছিলেন ১৪ ম্যাচ।

রিভালদো খেলেছিলেন দুটি বিশ্বকাপ আসরে। আর নেইমার পৌঁছালেন এই সংখ্যায় চারটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে।

২০১৪ বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ, ২০১৮ বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ, ২০২২ বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ—সব মিলিয়ে ১৪।

নেইমারের এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি ব্যতিক্রমী তথ্যও। মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়কে ১০ নম্বর জার্সি পরতে দেখা যায়নি।

ফলে টানা দুই ম্যাচ ব্রাজিল খেলেছে তাদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জার্সিটি ছাড়া।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬২ বিশ্বকাপে। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছিলেন পেলে।

এরপর আর সেই আসরে ফিরতে পারেননি তিনি। তখন টানা তিন ম্যাচ ১০ নম্বর জার্সির উপস্থিতি ছাড়াই খেলতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।

স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমারের মাঠে নামা তাই কেবল একজন তারকার প্রত্যাবর্তন নয়, ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যেরও প্রত্যাবর্তন।

আরেকটি পরিসংখ্যানও নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে, নেইমার কতটা বিশেষ এক যাত্রার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সিতে এটি ছিল তার ৯৮তম ম্যাচ। তার ওপরে রয়েছেন কেবল একজন—পেলে, যার সংখ্যা ১০৫।

অর্থাৎ, আর মাত্র দুই ম্যাচ খেললেই ১০ নম্বর জার্সিতে শত ম্যাচের অনন্য ক্লাবে প্রবেশ করবেন নেইমার। সেই সুযোগ আসতে পারে নকআউট পর্বেই।

কয়েক মাস আগেও ইনজুরি তাকে মাঠের বাইরে রেখেছিল। অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক সংশয় ছিল।

কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ মিনিটে মাঠে নামার মুহূর্তে যেন সব প্রশ্নের উত্তর এক ঝলকেই দিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ইতিহাসের বইয়ে পেলে আছেন, রিভালদো আছেন। এখন সেই একই পাতায় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি নাম—নেইমার।

আর বিশ্বকাপের মঞ্চে তার গল্পটি যে এখনও শেষ হয়নি, সেটিও যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল এই প্রত্যাবর্তন।