চেকিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো।
প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক দেখিয়ে ইউরোপের দলটিকে একপ্রকার অসহায় করে তোলে কার্লোস রদ্রিগেজের শিষ্যরা।
টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২-এ উঠেছে মেক্সিকো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্বাগতিকরা।
আক্রমণ সাজিয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল করতে পারেনি কোনো দল।
দুই পক্ষই কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তুললেও দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তা ও অসাধারণ সেভে গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
তবে বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মেক্সিকোকে দেখা যায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে চেকিয়াকে নিজেদের অর্ধে আটকে ফেলে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে লুইস রোমোর নিখুঁত ও বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জালের দেখা পান মাতেও চাভেজ। এই গোলেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মেক্সিকো।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় চেকিয়া। কিন্তু মেক্সিকোর সংগঠিত ও ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
উল্টো ৬১তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা।
জর্জে সানচেজের চমৎকার পাস কাজে লাগিয়ে সহজ ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিওনেস।
দুই গোলের পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে যায় চেকিয়ার জন্য। সময় যত গড়িয়েছে, ততই মেক্সিকোর নিয়ন্ত্রণ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত পাস থেকে আলভারো ফিদালগো দুর্দান্ত এক শটে বল জালে পাঠিয়ে ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই দাপুটে জয়ের রাতে নতুন ইতিহাসও লিখেছেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
প্রায় ৭২ মিনিট মাঠে থেকে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি পরিপক্ব ও কার্যকর পারফরম্যান্স উপহার দেন এই উদীয়মান ফুটবলার।
টানা তিন ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল মেক্সিকো।
অন্যদিকে, এই বড় পরাজয়ের ফলে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সমীকরণ চেকিয়ার জন্য হয়ে উঠেছে অনেকটাই কঠিন।
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মেক্সিকো এখন চোখ রাখছে বিশ্বকাপের আরও বড় মঞ্চে, যেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

