back to top

১২০ মিনিটেও মেলেনি মীমাংসা, নাটকীয় টাইব্রেকারে হাসল মরক্কো

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ০৯:৫২

দুই দলকেই এবারের বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ বলা হচ্ছিল। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই দেখা গেল নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াইয়ে।

টানটান উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি আক্রমণ, শেষ মুহূর্তের নাটকীয় সমতা—সব মিলিয়ে চলতি আসরের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিল দুই দল।

তবে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ভাগ্য নির্ধারণ হলো পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল। প্রথমার্ধে গোল না হলেও সুযোগের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল মরক্কো।

বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা এক নিখুঁত ক্রসে পোস্টের সামনে সম্পূর্ণ ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ইসমাইল সাইবারি।

কিন্তু বলের সংযোগ করতে না পারায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসও কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৭১তম মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল।

পেছন থেকে ফাউলের শিকার হলেও বলটি ঠিকই বাড়িয়ে দেন কোডি গাকপোর উদ্দেশে।

গাকপোও প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে নিয়ন্ত্রণ হারাননি। ফাউলের মধ্যেই শট নিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে, এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে।

এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কো মরিয়া হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে তাদের সেই চেষ্টার ফলও মেলে।

৯১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় তালবি বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ক্রস তুলে দেন বক্সে। সেখানে ঈসা দিওপ উঁচুতে লাফিয়ে নিখুঁত হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে।

শেষ মুহূর্তের সেই গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো, ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনার কমতি ছিল না। সপ্তম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি সুফিয়ান রাহিমি। তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক ভেরব্রুগেন।

এরপর আর কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ১২০ মিনিটের লড়াই। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।

টাইব্রেকারে প্রথম শট থেকেই শুরু হয় নাটক। নেদারল্যান্ডসের কুপমাইনার্স সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনো সঠিক দিকে ঝাঁপালেও বল স্পর্শ করতে পারেননি।

মরক্কোর হয়ে প্রথম শট নিতে এসে নেইল এল আইনানুই বল উড়িয়ে মারেন আকাশে। সুযোগ পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি নেদারল্যান্ডস।

কারণ জাস্টিন ক্লুইভার্টও নিজের শট লক্ষ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেন।

এরপর সুফিয়ান রাহিমির শট ভেরব্রুগেনের হাতে লেগেও জালে ঢুকে পড়ে। স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১। নেদারল্যান্ডসের ভের্গহর্স্ট গোল করে আবার দলকে এগিয়ে নিলেও মরক্কোর তালবি সফল স্পট কিকে সমতা ফিরিয়ে আনেন।

চতুর্থ রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের কুইন্টেন টিম্বার শট অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আশরাফ হাকিমিও। তার শট বাঁ দিকের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইয়াশিন বুনো। নেদারল্যান্ডসের সামারভিলের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

এরপর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি গোল। সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ইসমাইল সাইবারি। কোনো ভুল না করে জালে বল পাঠিয়ে ৩-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতিয়ে দেন মরক্কোকে।

শেষ মুহূর্তে ফিরে আসা, গোলরক্ষকের দুর্দান্ত দৃঢ়তা আর টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপ—সব মিলিয়ে আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ রাতের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

আর গেল বারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো নতুন করে জানিয়ে দিল, বড় মঞ্চে তাদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। নাটকীয় এই জয়েই তারা নিশ্চিত করেছে প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোর টিকিট।