back to top

বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী হামলার পর ক্যাম্পে ঢুকে গুলি, বড় হামলার দাবি বিএলএর

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৩৭

বেলুচিস্তানের উপকূলীয় শহর জিওয়ানিতে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের একটি সামরিক ক্যাম্পে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

হামলায় ৩০ জনের বেশি আধাসামরিক সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে এ দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, শক্তিশালী ওই বিস্ফোরণের পর তাদের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী ‘ফতেহ স্কোয়াড’ ক্যাম্পে প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালায়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও সদস্য আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদর জেলার জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের ক্যাম্পটিই ছিল হামলার লক্ষ্য।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ–এর নামে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি সংগঠনটির বিশেষ ইউনিট ‘মাজিদ ব্রিগেড’ পরিচালনা করেছে এবং এটি ছিল একটি আত্মঘাতী কমান্ডো অভিযান।

যদিও বিএলএ দাবি করেছে, হামলায় ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন, পাকিস্তানের সামরিক বা বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

বিএলএ বলেছে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটি প্রদেশটির বিভিন্ন সামরিক, আধাসামরিক ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।

এ ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিনের অস্থির বেলুচিস্তান। অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে সাম্প্রতিক এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত অনেক প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।