back to top

কলহ ও পাওনা টাকার বিরোধ: আনোয়ারায় গৃহবধূ ও জেলের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪২

আনোয়ারা যেন মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভিন্ন মৃত্যুর ঘটনায় থমকে গেছে। একদিকে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের অভিযোগে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ।

অন্যদিকে, একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে এক জেলের মরদেহ। দুটি ঘটনার পেছনের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা এবং শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলার পৃথক স্থান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন বটতলী ইউনিয়নের পূর্ব বরইয়া এলাকার গৃহবধূ উম্মে হাবিবা (২২) এবং সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকার জেলে জিকু সর্দ্দার (৩৫)

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় উম্মে হাবিবাকে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ইঁদুর মারার বিষ পান করেছিলেন। উম্মে হাবিবা সায়েদ ইমরানের স্ত্রী এবং এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

এর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর, শনিবার সকাল ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জিকু সর্দ্দারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জিকু সর্দ্দার ভট্টাচার্য নিবাস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি উপজেলার বিলপুর হাঁড়িপাড়া এলাকায়।

জিকুর পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর বোনের স্বামীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ।

তবে জিকুর স্ত্রী জানান, কয়েকদিন ধরেই তাঁর স্বামী মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছিলেন। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি তাঁকে জানিয়েছিলেন।

এমনকি কিছু টাকা ব্যাংকে জমা থাকার কথাও বলেছিলেন। তবে পুরো বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে ভাগ করে নেননি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গৃহবধূ উম্মে হাবিবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একইভাবে জেলে জিকু সর্দ্দারের মৃত্যুর ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুটি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।