দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানতের টাকা ফেরত এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে পাঁচটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা এবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
শনিবার চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নিজেদের দুর্ভোগ, অনিশ্চয়তা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তারা।
বৈঠকে উপস্থিত আমানতকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আটকে থাকায় অনেক পরিবার চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কেউ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছেন না, কেউ ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এসব বাস্তবতার কথাই তারা বিস্তারিতভাবে অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনোযোগ দিয়ে আমানতকারীদের বক্তব্য শোনেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পাঁচটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও ভালো সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি এর আগেও জাতীয় সংসদে এই সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতি দ্রুতই ব্যাংকগুলোর কারিগরি ত্রুটি ও অন্যান্য জটিলতা দূর করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বৈঠকে উপস্থিত ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও আশাবাদের সঞ্চার হয়।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি এম এ কাদের এবং সহ-সভাপতি শারমিন আক্তার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দীন আজাদ, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বিপ্লব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলী শাহ্ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সজল, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন, যোগাযোগ সম্পাদক সোহেল এবং আরও অনেক ভুক্তভোগী আমানতকারী ও নেতৃবৃন্দ।
বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এর মাধ্যমে পাঁচটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লাখ লাখ গ্রাহকের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানত ফেরতের পথ সুগম হবে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশাই তাদের।

