back to top

চট্টগ্রামকে জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সিটিতে রূপ দিতে নতুন উদ্যোগ

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর’ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:১২

চট্টগ্রামের নগরজীবনের নানা সমস্যার গবেষণাভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করা, উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে।

প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্স।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়ের পরিকল্পনা। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেন।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্সের সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সেই আলোচনার ধারাবাহিকতাতেই প্রতিষ্ঠিত হলো এই গবেষণা কেন্দ্র, যা ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনের আগে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, একাডেমিক সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের ডিরেক্টর সাদাত জামান খান, স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের কাউন্সেলর ফাইজা চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল হোসেন চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি আধুনিক, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

তাঁর ভাষায়, ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ নগরসেবার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ ধরনের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রামকে জ্ঞানভিত্তিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের পথ আরও সুগম করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি স্নাতক পর্যায়ের প্রোগ্রাম বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল থেকে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করায় এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।

কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্স বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এই সহযোগিতাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যা শুধু দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, স্থানীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর জ্ঞান ও সমাধান তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

তাঁর বিশ্বাস, এই ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ভবিষ্যতের গবেষণা ও উদ্ভাবনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি। তাঁর মতে, আজকের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত গবেষণা ও নীতিগত সুপারিশ নগর উন্নয়ন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবপ্রতিষ্ঠিত ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পরিদর্শন করেন এবং এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন।

গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রকে সংশ্লিষ্টরা চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা ও জনসেবাকে আরও কার্যকর, তথ্যনির্ভর এবং আধুনিক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।