back to top

৪৫% প্রবৃদ্ধির কঠিন চ্যালেঞ্জে এনবিআর, পাশে থাকার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৭

বিদায়ী অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা থাকলেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তাঁর ভাষায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ আশাবাদের কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “রাজস্ব আদায় ভালো হবে। এনবিআরের সবাই প্রস্তুত। আমরা যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, তা পূরণ হবে।”

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের তুলনায় এ লক্ষ্য প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি, যা রাজস্ব প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সরকারের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

বৈঠকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব চিত্র এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাবে, রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত (১১ মাস ২০ দিন) শুল্ক ও কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা।

সংস্থাটির ধারণা, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি।

রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা থাকলেও এনবিআরের মূল্যায়ন, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর নেতারাও শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।

শিল্প ও ব্যবসা খাতে কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান কীভাবে করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বিটিএমএর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি ও সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় বৈঠকেই সমাধান হয়েছে, আর যেসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি, সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা ডিরেগুলেশন কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিদ্যমান সমস্যাগুলোও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে।

রাজস্ব আদায়ে বড় লক্ষ্য, বিদায়ী অর্থবছরের ঘাটতি এবং একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ-সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে সরকারের সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার প্রত্যাশাও।

সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এনবিআরের সক্ষমতা এবং সরকারের সংস্কার উদ্যোগ।