ব্রাজিলে পা রেখেছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে-দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ। কিন্তু সেই হেক্সা মিশন থেমে গেল শেষ ষোলোর মঞ্চেই।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। আর অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমারের করা গোল ব্রাজিলের জন্য হয়ে থাকল কেবল সান্ত্বনা।
গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শেষ বত্রিশে ওঠে সেলেসাওরা। সেখানে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নরওয়ের বাধা আর পেরোনো হলো না।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তা। দ্বিতীয় মিনিটেই হলান্ড বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শুরুতেই বড় ধাক্কা থেকে বেঁচে যায় ব্রাজিল।
এরপর অষ্টম মিনিটে আক্রমণে উঠে আসে সেলেসাওরা। বক্সের ভেতরে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ের। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির বাঁশি বাজে।
সবার প্রত্যাশা ছিল স্পটকিকে যাবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু দায়িত্ব নেন ব্রুনো গিমারেস।
সেই সিদ্ধান্ত ফল এনে দিতে পারেনি। তাঁর শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় সেলেসাওরা। ২৩ মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে কুনিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শটও প্রতিহত করেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নিল্যান্ড।
অন্যদিকে প্রথমার্ধের শেষ দিকে নরওয়েও গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করে। হলান্ড ব্যর্থ হলেও মার্তিন ওডেগার্ডের শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন অ্যালিসন বেকার। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে দুটি পরিবর্তন আনে। আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার পরিবর্তে মাঠে নামেন অস্কার বব এবং আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। পরে এই শেলদেরুপই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।
এদিকে ব্রাজিলও কুনিয়ার বদলে এন্দ্রিককে নামায়। মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড।
কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও জাল খুঁজে পাননি। এরপর রায়ানের দূরপাল্লার শটও নিল্যান্ডের হাতে আটকে যায়।
ক্রমেই নরওয়ের আক্রমণে প্রাণ ফেরান শেলদেরুপ। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। নেইমার, ভিনিসিয়ুসরা একের পর এক আক্রমণ গড়লেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান নিল্যান্ড।
শেষদিকে সেই চাপ সামলে উল্টো ব্যবধান দ্বিগুণ করে নরওয়ে। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে আবারও শেলদেরুপের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হলান্ড। সেই গোলেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের বিদায়।
অতিরিক্ত সাত মিনিটে শেষবারের মতো লড়াইয়ের সুযোগ পায় সেলেসাওরা। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি আদায় করে ব্রাজিল।
এবার স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি নেইমার। তবে তাঁর গোল শুধুই ব্যবধান কমিয়েছে।
শেষ বাঁশি বাজতেই ২-১ ব্যবধানের পরাজয়ে বিশ্বকাপের হেক্সা স্বপ্ন ভেঙে যায় ব্রাজিলের।
আর হলান্ডের জোড়া গোল ও শেলদেরুপের দুই অ্যাসিস্টে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।

