৩৯ বছরেও ইতিহাস লিখছেন মেসি

থামছে না আর্জেন্টিনার জয়রথ: ২০২৬ বিশ্বকাপে টানা ৭ জয়ের মহাকাব্য

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৭

শেষ বাঁশি বাজতে তখনও কয়েক মিনিট বাকি। স্কোরবোর্ডে এগিয়ে ইংল্যান্ড, আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে শঙ্কা। কিন্তু এই দলটি যেন হার মানতে জানে না।

বুধবার রাতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সেই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। শিরোপার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখায় মনে হচ্ছিল ফাইনালের টিকিট বুঝি ইংল্যান্ডের হাতেই যাচ্ছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।

৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান আর্জেন্টিনার হয়ে। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।

শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় জয়েই আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের।

এই জয় শুধু আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেনি, লিওনেল মেসির নামও তুলে দিয়েছে ইতিহাসের নতুন উচ্চতায়।

৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়েছেন।

এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে সাত ম্যাচে পাঁচ জয়, একটি ড্র ও একটি হারে রানার্সআপ হয়েছিল দলটি।

২০২২ সালে চার জয়, দুটি ড্র ও এক হার নিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ছিল হতাশার। চার ম্যাচে মাত্র একটি জয়, একটি ড্র ও দুটি হারে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল মেসিদের।

২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্য এখন পর্যন্ত নিখুঁত পথচলাতেই এগোচ্ছে আর্জেন্টিনা। সাতটি ম্যাচ খেলেই সাতটি জয় তুলে নিয়েছে স্ক্যালোনির দল। প্রতিটি পরীক্ষায় সফল হয়ে তারা পৌঁছে গেছে ফাইনালের মঞ্চে।

টানা দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাও আর্জেন্টিনার ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে টানা দুই ফাইনাল খেলেছিল দলটি।

তখন অধিনায়ক ছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এবার সেই কীর্তির সমান হলেন মেসি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুইবার দলকে ফাইনালে তোলা অধিনায়কদের তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন কিংবদন্তি।

পশ্চিম জার্মানির কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে দলকে ফাইনালে তুললেও দুইবারই রানার্সআপ হন।

ব্রাজিলের দুঙ্গা ১৯৯৪ সালে পেনাল্টিতে শিরোপা জেতেন, ১৯৯৮ সালে হারেন। ফ্রান্সের উগো লরিস ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতলেও ২০২২ সালের ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে পরাজিত হন।

এবার সেই মেসির সামনে আরেকটি সুযোগ। প্রতিপক্ষ স্পেন। ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত ছন্দে আছে। মেসিও একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই-স্পেনকে হারিয়ে কী টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারবে আর্জেন্টিনা, নাকি শেষ হাসি হাসবে ইউরোপের নতুন শক্তি?