বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার জয় উদ্যাপনে নেমেছিল নেত্রকোনা শহর।
বিজয়ের আনন্দমিছিলের সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখতে চেয়েছিলেন কলেজশিক্ষার্থী দীপ্ত চৌধুরী (২৩)।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতায় সেই উল্লাসের রাতই পরিণত হয় এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে প্রাণ হারান তিনি।
গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোটবাজার এলাকার শহীদ মিনার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দীপ্ত চৌধুরী শহরের মালনী রোড এলাকার বাসিন্দা বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা দেখতে বাসা থেকে বের হন দীপ্ত। পরে বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন।
খেলা শেষে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহরে আনন্দমিছিল বের হয়। মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার মোড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন দীপ্ত।
ভিডিও ধারণের সময় অসাবধানতাবশত পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপ্তকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীপ্তর মামা সুব্রত রায় জানান, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয় উদ্যাপনে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দমিছিল বের করেন।
সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শহীদ মিনার মোড়ে সিঙ্গার শো-রুমের দ্বিতীয় তলায় ওঠেন দীপ্ত।
ভিডিও ধারণের সময় পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীপ্তর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
যে তরুণ বিজয়ের উল্লাসের মুহূর্ত স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই রাতই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ অধ্যায়।
