সংসারের অতি পরিচিত ও সাধারণ একটি কাজও যে এভাবে নির্মম ট্র্যাজেডি ডেকে আনবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ।
প্রতিদিনের মতোই গৃহস্থালির প্রয়োজনে নিজ বাড়ির আঙিনায় শুকনো লাকড়ি কুড়াতে গিয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জকিরাজ খাতুন।
কিন্তু সেই লাকড়ি আর ঘরে নিয়ে ফেরা হলো না তাঁর। অসাবধানতাবশত হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন আঙিনার পাশের ডোবায়, আর সেখানেই নিভে গেল তাঁর জীবনের শেষ আলোটুকু।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মনসা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জকিরাজ খাতুন ওই এলাকার মৃত হাফেজার রহমানের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ঘরকন্নার কাজের জন্য বাড়ির আঙিনায় লাকড়ি কুড়াতে বের হন জকিরাজ খাতুন।
ধারণা করা হচ্ছে, লাকড়ি নিয়ে ঘরে ফেরার পথে কোনোভাবে হোঁচট খেয়ে তিনি পাশের একটি ডোবায় পড়ে যান।
বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ফলে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর নিজেকে সামলে ওঠার মতো শারীরিক শক্তি তাঁর ছিল না।
অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেলেও জকিরাজ খাতুন ঘরে না ফেরায় পরিবারের স্বজনরা চারদিকে খোঁজখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয় অধিবাসীদের যৌথ উদ্যোগে ডোবায় অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়।
ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডোবার অন্ধকার পানি থেকে উদ্ধার করা হয় জকিরাজ খাতুনের নিথর দেহ।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত উদ্ধারকারী টিম নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাই।
স্থানীয়দের সক্রিয় সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ডোবা থেকে ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
অসাবধানতায় এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, বৃদ্ধার এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বিদায়ে পুরো এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে।
