বাড়ি ফেরার পথটাই যে জীবনের শেষ পথ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবেননি ৫২ বছর বয়সী মো. মুছা।
চার দিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে চলা লড়াইটা অবশেষে থেমে গেল।
ঘাতক মোটরসাইকেলের নির্মম ধাক্কায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বোয়ালখালীর এই বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত মো. মুছা বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোমদণ্ডী লাল মিয়ার বাড়ির মৃত আল আমিনের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৫টার দিকে কাজ শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন মো. মুছা।
উপজেলার কানুনগোপাড়া বিদ্যুৎ অফিসের সামনে পৌঁছে রাস্তা পার হওয়ার সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দ্রুত আইসিইউ (ICU) সাপোর্টের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বাধ্য হয়ে স্বজনেরা তাঁকে নগরীর আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করান।
চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা এবং স্বজনদের আকুল প্রার্থনার মাঝেও শেষ রক্ষা হয়নি, চার দিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মঙ্গলবার রাতে চিরতরে চোখ বোনেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশ আমাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মো. মুছার এই হঠাৎ ও নির্মম প্রস্থানে পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শোক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো কানুনগোপাড়া ও গোমদণ্ডী এলাকায়।
