বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা এবং বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) প্র-পৌত্র, ত্বরিকার প্রোজ্জ্বল অধ্যাত্ম পুরুষ বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র ৩৮তম মহান ২৬ আশ্বিন উরস আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মন্জিলে অনুষ্ঠিত হবে।
মহান এ উরসকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলা ভবনস্থ ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হল’-এ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম-এর সভাপতিত্বে এবং পার্বত্য রাঙ্গামাটি জুরাছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ইমন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ধনঞ্জয় দেবনাথ, থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, নাজিরহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান, ভুজপুর থানার কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম সরকার এবং উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক হাসান আহমেদ।
দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মন্জিলের পক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, চমেক হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম, উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফযখানা পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন চৌধুরী, ফটিকছড়ি প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি মোঃ এমরান হোসেন, নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম, মন্জিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ওবাইদ নাঈম।
এ ছাড়া সভায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাবৃন্দ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে মূলত মহান ২৬ আশ্বিন উরসকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উরস উপলক্ষে আগত ভক্ত, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র মাজার শরিফের খাদেম মাওলানা হাবিব উল্লাহ।
সাত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নানা আয়োজন
মহান ২৬শে আশ্বিন উরস শরিফ উপলক্ষে গাউসিয়া হক মন্জিল প্রতিষ্ঠিত শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে থাকছে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক সেবা, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতাকে ঘিরেও রয়েছে বেশ কিছু কার্যক্রম।
কর্মসূচির শুরু হবে ০২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। এদিন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদ নিয়ন্ত্রণাধীন শাখা কমিটিসমূহের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকার মসজিদে বাদ জুমা কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
০৩ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’ (৮ম তলা)-এ অনুষ্ঠিত হবে ‘হযরত মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)’র জীবনী ও রচনাবলি শীর্ষক সেমিনার।
এরপর ০৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র জীবনী আলোচনা, র্যালি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকবে।
০৭ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলার রেজিস্টার্ড এতিমখানাসমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একবেলা খাবার সরবরাহ করা হবে।
উরসের মূল আয়োজন ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার। এদিন আগত মানুষের সুবিধার্থে ন্যায্যমূল্যে খাবারের দোকান, উপদেশমূলক দিক-নির্দেশনা সম্বলিত প্রচার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।
উরসের পরদিন ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার ভোর ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় হযরত কেবলার রওজা শরিফ মাঠ হতে শান-ই আহমদীয়া গেইট পর্যন্ত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সামাজিক সম্পৃক্ততা, মানবিক সেবা, শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার সমন্বয়ে সাজানো সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে ঘিরে মাইজভাণ্ডার শরিফ ও ফটিকছড়িতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে।
প্রশাসন, দরবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে ৩৮তম মহান ২৬ আশ্বিন উরস সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
