চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মাটির রাস্তায় চলাচলে বেশ ভোগান্তিতে আছে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা । এই মাটির রাস্তাটি উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আমিরাবাদ ঘোনা পাড়া টংকাবতী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। টংকাবতী (লোহার ব্রীজ) এলাকা হইতে উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি ব্রিক সলিং দ্বারা উন্নয়নের দাবী জানিয়েছেন এলাকার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। সড়কটি কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসমে এলাকার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেক মানুষের যাতায়াত। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানির সৃষ্টি হয় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি। রাস্তাাটিতে ইটের ছোঁয়া না লাগায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আমিরাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডের টংকাবতী (লোহার ব্রিজ) সংলগ্ন এলাকা হতে উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধসহ সবার। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এ রাস্তায় মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় নাজুক অবস্থা পরিণত হয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়ে যায়। এছাড়াও এই কাচা রাস্তা দিয়ে কৃষকরাও বিভিন্ন হাট-বাজারে তাদের রুপনকৃত ফসলাদি বিক্রি করার জন্য নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন
উত্তর আমিরাবাদ ঘোনা পাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাতায়াতে কস্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সময়ে কাচা রাস্তাটি পাকা করণ হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের উপকার হবে।
উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের এই রাস্তা দিয়ে বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়ার সময় খুবই অসুবিধা হয়। রাস্তাটি পুরোটা ডুবে যায়। যার কারণে আমরা অনেকেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারিনা। আমরা যাতে প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারি সেজন্য মাননীয় এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘোনা পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরা কাচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করি ও শিক্ষার্থীরাও চলাচল করে থাকে। বর্ষা কালে কাদায় পড়ে পিছলে যায়, শিক্ষার্থীদের কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা এলাকার মানষ আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয়, বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, ঘোনাপাড়া শাহ মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ আশেপাশের এলাকার অনেক লোকজন যাতাযাত করে থাকে এই কাচা রাস্তাটি দিয়ে।তাই রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঁকা করণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) মাস্টার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় দীর্ঘদিন দুর্ভোগে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার অবসান ঘটাতে দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ নেই। তিনি রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে সড়কটি পাকাকরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
