চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৪ ঘণ্টার অভিযান, মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৫

চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাঁদের মধ্যে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৬৭ জনকে।

এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১১ সদস্যও গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় এ অভিযান চালানো হয়।

জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ৮৪ জন, পূর্ববর্তী মামলার আসামি ৭৭ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১১ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত ১১৬ জন ও সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫২ জন। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪০ জনকে।

বিশেষ অভিযানে ১১ হাজার ৬৫২ পিস ইয়াবা, ৩৯ কেজি ৬৭৫ গ্রাম গাঁজা, ১২৪ লিটার চোলাই মদ, আট বোতল বিদেশি মদ, ১৬ ক্যান বিয়ার, ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ ও ৭০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৭টি মামলা করা হয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের গ্রেপ্তার ১১ সদস্যের মধ্যে চট্টগ্রামের একজন, কুমিল্লার তিনজন, চাঁদপুরের একজন, নোয়াখালীর তিনজন, ফেনীর দুজন ও খাগড়াছড়ির একজন রয়েছেন।

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬৭ জনের মধ্যে ৩৮৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৮১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে কুমিল্লায়, ১৯৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১১০, লক্ষ্মীপুরে ৬৮, চাঁদপুরে ৪৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪১, নোয়াখালীতে ৩৯, রাঙামাটিতে ২০, কক্সবাজারে ১৫, ফেনীতে ১২, বান্দরবানে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক নিয়ন্ত্রণে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।