গালফ নিউজের বিশেষ ফিচার থেকে এশিয়া ওয়ান আসিয়ান সামিটের ‘গ্রেটেস্ট লিডার’ স্বীকৃতি—আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠার যাত্রায় নতুন আলোচনায় ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার এবং এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম।
শিব শংকর মোদক : বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনার কথা বলে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাস্তব সাফল্যের গল্পে রূপ নিতে শুরু করেছে।
আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দক্ষ মানবসম্পদ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত আজ নতুন এক আত্মবিশ্বাসের পথে হাঁটছে।
এই পরিবর্তনের প্রতীকী মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছেন ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম।
বুধবার (১০ জুন) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের JW Marriott Hotel-এ অনুষ্ঠিত এশিয়া ওয়ান আসিয়ান সামিট গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ডস এন্ড লিডার্স ২০২৬-এর ২৭তম আসরে সাকিফ শামীম ‘গ্রেটেস্ট লিডার’ এবং ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার ‘গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড’ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এর আগেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ “Raising the bar in Bangladeshi healthcare” শিরোনামে প্রকাশিত এক বিশেষ ফিচারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রা তুলে ধরেছিল।
সেই প্রতিবেদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার এবং এর নেতৃত্ব।
বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল এবং একজন তরুণ নেতৃত্বের এভাবে উঠে আসা নিঃসন্দেহে জাতীয় গর্বের বিষয়।
গালফ নিউজ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কূটনীতি ও মানবিক উন্নয়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত।
ফলে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিত্ব করা কেবল সংবাদ নয়, বরং একটি শক্তিশালী বার্তা—বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করছে।
প্রতিবেদনটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক মানের কেয়ার, রোগীকেন্দ্রিক সেবা এবং দক্ষ চিকিৎসক দলের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম শীর্ষ অনকোলজি সেন্টারে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হাসপাতালটির JCI Accreditation অর্জনের বিষয়টি। বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
সাকিফ শামীমের বক্তব্য—“Achieving JCI accreditation was the toughest and most rewarding journey”—শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিশ্বমান প্রতিষ্ঠার এক দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিফলন।
গত কয়েক বছরে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, রোবোটিক সার্জারি, পেট সিটি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, কেমোথেরাপি ডে কেয়ার এবং সমন্বিত ক্যান্সার কেয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে অসংখ্য রোগীর কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি।
একসময় উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব রোগী বিদেশমুখী হতেন, তাঁদের একটি বড় অংশ এখন দেশে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এতে যেমন রোগীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কমছে, তেমনি চিকিৎসা পর্যটনের ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর। আর এই জায়গাতেই সাকিফ শামীমের নেতৃত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি যে রূপকল্প সামনে এনেছেন। তা শুধু একটি হাসপাতালের উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক সুদূরপ্রসারী চিন্তার প্রতিফলন।
বিশ্ব স্বাস্থ্যখাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারলেই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব।
সেই বাস্তবতায় ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
সাকিফ শামীমের নেতৃত্বে যে যাত্রা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এটি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব থাকলে বাংলাদেশও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সক্ষম।
স্বাস্থ্যসেবার নতুন এই আত্মবিশ্বাস, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার গল্পে তাই আজ একটি নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে—সাকিফ শামীম।
আর তাঁর নেতৃত্বে এগিয়ে চলা ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার হয়ে উঠছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উজ্জ্বল অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতীক।

