back to top

রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:৫৭

জাতীয় দলের জার্সিতে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলশূন্য ছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে পর্তুগালের খ্যাতনামা গণমাধ্যম ‘আ বোলা’ পর্যন্ত দাবি করেছিল, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হয়তো শুরুর একাদশেই জায়গা হারাতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

তবে সব সমালোচনা, সংশয় ও গুঞ্জনের জবাব তিনি দিলেন নিজের সবচেয়ে পরিচিত উপায়ে—মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যেন দেখা মিলল পুরোনো সেই রোনালদোর। জোড়া গোল করে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গড়লেন দুটি অনন্য রেকর্ড।

তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে পর্তুগাল। এরই ফল আসে মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে।

ডান প্রান্ত থেকে জোয়াও কানসেলোর গতিময় ও নিখুঁত ক্রসে চমৎকার টাইমিংয়ে সাইড-ফুটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক রোনালদো।

উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোখিদ নেমাতভের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর।

এই গোলের মধ্য দিয়েই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান পর্তুগিজ মহাতারকা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার গোল করে তিনি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অসাধারণ কীর্তি গড়েন।

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই ১৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। ফ্রি-কিক থেকে সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন উজবেক রক্ষণভাগকে চমকে দিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জাল কাঁপান নুনো মেন্দেস। বুদ্ধিদীপ্ত এই গোল পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে ম্যাচের আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত। ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের অসাধারণ থ্রু-বল ধরে ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত কোণাকুণি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ, যা পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এতে তিনি ছাড়িয়ে যান দেশটির কিংবদন্তি ইউসেবিওকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেন ১৪৫-এ।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া পর্তুগাল দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা অব্যাহত রাখে।

৬০তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে নেওয়া তাঁর শট উজবেক গোলরক্ষকের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।

তবে সেই কর্নার থেকেই আসে পর্তুগালের চতুর্থ গোল। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিচু কর্নার কিক থেকে জোয়াও ফেলিক্সের ফ্লিকের পর বল এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে গোললাইনের ভেতরে চলে যায়।

কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা থাকলেও গোলটি পর্তুগালের পূর্ণ আধিপত্যেরই প্রতিফলন ছিল।

ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ায় পর্তুগাল। ৮৭তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা রাফায়েল লিও দলের হয়ে পঞ্চম ও শেষ গোলটি করেন।

নেলসন সেমেদোর পাস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে তাঁর সামনে চলে এলে শক্তিশালী শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৫-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সমালোচনার জবাব, রেকর্ডের ঝলক, জোড়া গোল এবং দলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে হিউস্টনের রাতটি হয়ে থাকল পর্তুগিজ মহাতারকার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দৌড়ে এই জয় পর্তুগালকে এনে দিয়েছে বড় স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস।