back to top

জ্যোতির হাত ফসকাতেই বদলে গেল ম্যাচের গল্প-ভারতের জয়

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ০৫:০৭

ম্যানচেস্টারে ম্যাচের প্রথম ওভারেই যেন লেখা হয়ে গিয়েছিল গল্পের শেষ অধ্যায়। উইকেটরক্ষক নিগার সুলতানা জ্যোতির হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি সহজ ক্যাচ শুধু একজন ব্যাটারকে জীবনই দেয়নি, বদলে দিয়েছে পুরো ম্যাচের গতিপথ।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেফালি ভার্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৩৬ রান। জবাবে ১৬ ওভার ৫ বলেই ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত।

বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য খুব বড় না হলেও শুরুতে ভারতকে চাপে ফেলার সুযোগ এসেছিল। মারুফা আক্তারের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন শেফালি ভার্মা।

কিন্তু সহজ সেই সুযোগটি নিতে পারেননি জ্যোতি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতীয় ওপেনারকে।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকা শেফালি একের পর এক বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেন। মারুফার পর সানজিদা আক্তার মেঘলার ওপরও চড়াও হন তিনি।

অন্য প্রান্তে স্মৃতি মান্ধানা ৬ বলে ৮ রান করে ফিরলেও ভারতের রান তোলার গতি থামেনি। পাওয়ার প্লে শেষেই তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৬৩ রান।

এরপর রাবেয়ার এক ওভারে একাধিক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শেফালি।

শেষ পর্যন্ত নাহিদা আক্তারের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরার আগে ৩৪ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা।

শেফালির বিদায়ের পর বাংলাদেশ কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। স্বস্তিকা ভাটিয়া ও রিচা ঘোষকে দ্রুত ফিরিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করে তারা।

তবে জেমিমাহ রদ্রিগেজের ১৫ বলে ২৬ রানের কার্যকর ইনিংস ভারতের পথ সহজ করে দেয়। শেষদিকে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসও শুরু হয়েছিল ধাক্কা দিয়ে। দ্বিতীয় ওভারেই ৮ বলে ৪ রান করে আউট হন দিলারা আক্তার।

এরপর জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারি ইনিংস গুছিয়ে নেন। তাঁদের জুটিতে পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪০ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুললেও বড় সংগ্রহের ভিত গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।

জুয়াইরিয়া ৩৩ ও সোবহানা ২২ রান করে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৩২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তারের দ্রুত রান তোলায় বাংলাদেশের স্কোর ১৩৬ পর্যন্ত পৌঁছায়।

তবে প্রতিযোগিতামূলক এই সংগ্রহ রক্ষার জন্য শুরুতে প্রয়োজন ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগানো। বিশেষ করে শেফালির সেই ক্যাচটি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, একটি ক্যাচ কখনো কখনো শুধু একটি সুযোগ নয়, সেটিই হয়ে উঠতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মুহূর্ত।

ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের জন্য সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।