back to top

শুরুর ধাক্কা সামলে জার্মানির বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়,ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ০৫:২৫

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল ইকুয়েডর। খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় জার্মানির জালে বল জড়ানোর উল্লাসে মেতে ওঠেন লিরয় সানে।

তবে সেই ধাক্কা সামলে দাঁড়াতে সময় নেয়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। দ্রুত সমতায় ফিরে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ইকুয়েডর।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার সাফল্য পেল।

তবে পরাজয়ের তিক্ততা নিয়েও স্বস্তির খবর আছে জার্মানির জন্য। ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে ইউরোপের দলটি। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে, তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডর ১২টি গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি জার্মানির। দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড লিরয় সানে। শুরুর এই গোল যেন ইকুয়েডরকে কিছুটা হতভম্ব করে দিয়েছিল।

তবে তারা দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেয়। ম্যাচের নবম মিনিটে সমতায় ফেরে ইকুয়েডর। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন ফরোয়ার্ড নিলসন আনহুলো। সেই গোলেই ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরে পায় ইকুয়েডর।

বিশ্বকাপে এবারের আসরে এটি ছিল ইকুয়েডরের প্রথম গোল। সমতায় ফেরার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। জার্মানি ও ইকুয়েডর—দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ইকুয়েডর।

ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে পা ছুঁইয়ে জালে পাঠান ফরোয়ার্ড গঞ্জালো প্লাতা। সেই গোলেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

শেষ সময় পর্যন্ত জার্মানি সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। ফলে আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর।

শুরুর ধাক্কা সামলে যেভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে ইকুয়েডর, তাতে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়; এটি তাদের আত্মবিশ্বাস, প্রত্যয় এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের গল্পও।

আর সেই গল্পের শেষ লাইনে লেখা থাকল—দুই দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইকুয়েডর।