দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আইভরিকোস্ট।
কুরাসাওকে ২–০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দেশটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম নকআউট পর্বে উঠল আইভরিকোস্ট।
এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দলটি। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল তারা।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ শেষে আইভরিকোস্টের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। সমান ৬ পয়েন্ট পেয়েছে জার্মানিও।
তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর রানার্সআপ হিসেবেই নকআউটের টিকিট কেটেছে আইভরিকোস্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আইভরিকোস্ট। তারই ফল আসে সপ্তম মিনিটে।
কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সুযোগটি লুফে নেন নিকোলাস পেপে। বক্সের ভেতরে পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কুরাসাও সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আইভরিকোস্টের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে দেয়নি। ১–০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে আইভরিকোস্ট। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে আসে স্বস্তির দ্বিতীয় গোল।
মাঝমাঠ থেকে ইব্রাহিম সানগারের দারুণ পাস পেয়ে আবারও লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস পেপে। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন এই ফরোয়ার্ড।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ২–০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আইভরিকোস্ট।
তবে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, দেশটির ফুটবল ইতিহাসেরও এক স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায়ের হতাশা পেছনে ফেলে এবার তারা পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে।
আর সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রার নায়ক হয়ে থাকলেন নিকোলাস পেপে, যার জোড়া গোল আইভরিকোস্টকে এনে দিল বহু প্রতীক্ষিত সাফল্যের স্বাদ।

