দিন তিনেক আগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল ইকুয়েডর। সেই একই নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এবারও যেন আরেকটি অঘটনের আভাস মিলছিল।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইংল্যান্ডকে আটকে রেখে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল পানামা।
তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর মানের পার্থক্যই গড়ে দিল ব্যবধান। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ২–০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে। পানামার বক্সে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না টমাস টুখেলের শিষ্যরা। অন্যদিকে সুসংগঠিত রক্ষণ গড়ে মাঝে-মধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠে ইংল্যান্ডকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছিল পানামা।
এই ম্যাচে হারানোর কিছুই ছিল না পানামার। টুর্নামেন্ট থেকে আগেভাগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া দলটির সামনে ছিল কেবল সম্মান রক্ষার লড়াই। বিপরীতে ইংল্যান্ড ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে পরের রাউন্ড।
তবু গ্রুপসেরা হওয়ার দৌড়ে পানামার বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ ছিল না। তাই সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল ইংলিশ সমর্থকদের উদ্বেগ।
অবশেষে ৬২ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কর্নার থেকে বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া জটলায় বল পেয়ে দারুণ প্লেসিংয়ে জালে পাঠান জুড বেলিংহাম।
বল গোললাইন অতিক্রম করতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইংল্যান্ড। মুহূর্তেই ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নিউজার্সি স্টেডিয়াম।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে পানামা। মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবারও কর্নার থেকে রক্ষণভাগের ম্যান মার্কিংয়ের ভুলের সুযোগ নেন হ্যারি কেইন।
দুর্দান্ত লাফিয়ে ওঠা হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দ্বিতীয় গোলের পর কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় টুখেলের দল।
৬০ মিনিট পর্যন্ত সমানতালে লড়াই করা পানামা মাত্র পাঁচ মিনিটেই দুই গোল হজম করে ছন্দ হারিয়ে ফেলে। এরপর পরিকল্পনাহীন ফুটবল খেলতে থাকে মধ্য আমেরিকার দেশটি।
অন্যদিকে জয় প্রায় নিশ্চিত দেখে টুখেল একাধিক ফুটবলার পরিবর্তন করে বেঞ্চের খেলোয়াড়দেরও পরখ করে নেন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ২–০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
দীর্ঘ সময় পানামার কঠিন প্রতিরোধে আটকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের দুই গোলেই নিশ্চিত হয় ইংলিশদের গুরুত্বপূর্ণ জয় এবং গ্রুপসেরা হওয়ার পথ আরও মজবুত হয়।

