ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ঘিরে এ দেশের সমর্থকদের আবেগের কোনো ঘাটতি নেই।
বিশ্বকাপ এলেই লাল-সবুজের পাশাপাশি উড়তে থাকে আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজ পতাকা।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশি সমর্থকদের উন্মাদনা বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়।
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে সেই উচ্ছ্বাস পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা দলেও।
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশি সমর্থকদের নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এবার একই সুরে কথা বললেন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানকে ৩–১ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এক মুহূর্তও দেরি করেননি মার্টিনেজ।
বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসা অকপটে প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের সমর্থকদের আমি ভালোবাসি। এই দেশটিকে আমি ভালোবাসি। আমি জানি তারা কতটা পাগল আমাদের জন্য। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি আমি। আমার মনে হয়, কোনো না কোনোভাবে তারা সবাই আর্জেন্টাইন।”
মার্টিনেজের এই মন্তব্য মুহূর্তেই বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের একজন তারকা ফুটবলারের মুখে বাংলাদেশের প্রতি এমন আন্তরিক ভালোবাসা নিঃসন্দেহে সমর্থকদের জন্য বিশেষ এক স্বীকৃতি।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের এক বছর পর সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
সেই সফরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা এবং আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম সমর্থন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার।
বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি তাকে অভিভূত করেছিল।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশ্বকাপ এলেই দেশের নানা প্রান্তে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা, রঙিন শোভাযাত্রা এবং রাত জেগে খেলা দেখার দৃশ্য এখন প্রায় পরিচিত সংস্কৃতির অংশ।
অনেকের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার বাইরে সবচেয়ে বেশি সমর্থকও হয়তো বাংলাদেশেই।
সেই ভালোবাসার প্রতিদান যেন আবারও দিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
জর্ডানের বিপক্ষে জয়ের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার আনন্দের মধ্যেও বাংলাদেশের কোটি সমর্থককে স্মরণ করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—হাজার মাইল দূরের এই দেশের আবেগ আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমেও পৌঁছে যায়।

