চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নকশাবহির্ভূত ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
অভিযানে সাতটি বহুতল ভবন ও একটি অনুমোদনহীন গুদামসহ মোট আটটি স্থাপনা সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) চউকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
চউক জানায়, অভিযানের সময় কল্পলোক আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলো পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, একাধিক ভবনে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক রাখা হয়নি, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণকাজ চলছে এবং বিভিন্ন ধরনের নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর মোট ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত সাতটি বহুতল ভবন এবং একটি অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা করা হয়।
একই সঙ্গে সিলগালা করা স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যাতে সেখানে আর কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো না যায়।
এ ছাড়া তিন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আদেশ দেন।
চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না।
নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত যেকোনো স্থাপনার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে চউক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে চউকের অথরাইজড অফিসার-২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

