back to top

বন্দর, বিমানবন্দর ও ফ্রি জোন: চট্টগ্রাম হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৫

‘চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’-এভাবেই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তাঁর ভাষায়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাংলাদেশে আসছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের বাজেট দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আর চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দর, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের আঞ্চলিক হাবে উন্নীত করা এবং একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে।

তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক করিডর আরও শক্তিশালী হবে এবং শহরটি আন্তর্জাতিক মানের একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে।

মাতারবাড়িকেও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, মাতারবাড়িকে ঘিরে বড় পরিসরের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও সরকার দ্রুত কাজ শুরু করতে চায়।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।

এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তাই সরকারের প্রথম লক্ষ্য অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। এরপর ধাপে ধাপে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির ধারা দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহ বাংলাদেশে বাড়ছে।

তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”