back to top

কাপ্তাই রাস্তার মোড়ে মাদকের রমরমা বাণিজ্য, নেপথ্যে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ ঝর্ণা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ২১:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও মোহড়া এলাকা এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মরিয়ম প্রকাশ ঝর্ণা নামের এক নারী এই অঞ্চলের মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার ছত্রছায়ায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার গাঁজা ও ইয়াবা কেনাবেচা হচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

সোর্স বেলাল ও পুলিশি ‘ম্যানেজমেন্ট’ সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, মরিয়ম প্রকাশ ঝর্ণা এককভাবে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন না। তার সাথে রয়েছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মূল হোতা পুলিশের কথিত সোর্স বেলাল। অভিযোগ রয়েছে, বেলালকে ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন স্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা ঘুষের বিনিময়ে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:

গ্রেপ্তার ও মোটা অংকের ঘুষ: গত ৯ জুন বায়েজিদ থানা পুলিশ মরিয়মের স্বামী ও ভাইকে গাঁজা ও ইয়াবাসহ আটক করে। কিন্তু রাতের আঁধারে সোর্স বেলালের মধ্যস্থতায় ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের মুক্ত করে আনা হয়।

ডিবি পুলিশের এসআই ইমামের সংশ্লিষ্টতা: গত সপ্তাহে ডিবি পুলিশের এসআই ইমাম মাদকসহ তার ভাইকে আটক করলেও, সোর্স বেলালের মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাদক সিন্ডিকেট শুধু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে না, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় মোহড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে চাইলে তাকেও ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম এখন খুবই কৌশলী তিনি সোর্স বেলালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্থানীয় অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিউজ করিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছেন। এছাড়া, মোহড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মাসিক ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এলাকাটিকে নিরাপদ ‘মাদক স্পট’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাদক পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে।

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
মাদকের এই ভয়াবহ থাবা চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন ক্ষুব্ধ। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন:

১. মাদক সম্রাজ্ঞী মরিয়ম ও তার সিন্ডিকেট সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
২. পুলিশের সোর্স বেলালের ছত্রছায়ায় যে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. মোহড়া ও কাপ্তাই রাস্তার মোড় এলাকাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‌্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে প্রতিদিন নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসি প্রতিবেদককে জানান চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন, জনস্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিন। অন্যথায়, সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।

 

সংবাদসূত্র: স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী।
(দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।)