বাংলাদেশের কোটি সমর্থকের উদ্দেশে স্কালোনির বার্তা, সেমিফাইনালের আগে বাড়তি প্রেরণা

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৫

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা মাঠে নামলেই যেন বুয়েনস আইরেসের পাশাপাশি আরেকটি শহরের হৃদস্পন্দনও বেড়ে যায়-বাংলাদেশ।

হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের এই দেশের কোটি সমর্থকের উচ্ছ্বাস, আবেগ আর অকৃত্রিম ভালোবাসা এবার ছুঁয়ে গেছে খোদ আর্জেন্টিনা শিবিরকেও।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগ লুকাননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি

বরং দূর দেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।

স্কালোনি বলেন, “বাংলাদেশ সবসময়ই আমাদের চমকে দেয়।” দূর দেশের সমর্থকদের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা যে দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায়, সেটিও স্বীকার করেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

পাশাপাশি সেমিফাইনালে জয় এনে বাংলাদেশের কোটি সমর্থকের মুখে হাসি ফোটানোর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। প্রতিটি জয় এসেছে লড়াই করে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ শক্তি উজাড় করে।

তবে সমালোচনার দিকে না তাকিয়ে নিজেদের অর্জন নিয়েই সন্তুষ্ট স্কালোনি। তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে উঠতে হলে নিশ্চয়ই আমরা ভালো কিছু করেছি। আমি এই ছেলেদের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ ওরাই আবার আমাদের বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে নিয়ে এসেছে।

আমরা অনেক ভালো কাজ করেছি। কখনও কখনও তা যথেষ্ট মনে হয় না, কিন্তু এখান পর্যন্ত যা করেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত।”

বিশ্বকাপের মতো আসরে কোনো ম্যাচই সহজ নয় বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

স্কালোনির ভাষায়, “সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠতে হলে ভুগতেই হয়, যদি না প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন। আগের বিশ্বকাপেও আমরা অনেক ম্যাচে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেও ভুগেছি। বিশ্বকাপে প্রতিকূলতা সামলে এগিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে এবার থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে আসা ইংলিশদের বিপক্ষে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন স্কালোনি।

বিশেষ করে দলের দুই বড় তারকা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছে আর্জেন্টিনা।

স্কালোনি বলেন, “এটি আগের ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি লড়াই হবে। আমরা যে জায়গাগুলোতে ভালো করতে পারিনি, সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। কেইন ও বেলিংহ্যাম এমন দুই ফুটবলার, যাদের যে কোনো কোচই দলে চাইবেন। তবে তাদের থামাতে আমাদেরও নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।”

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হলেই ইতিহাসের ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে আসে। সংবাদ সম্মেলনেও সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি স্কালোনি।

তবে অত্যন্ত সংযত ভাষায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, ফুটবলকে রাজনৈতিক বা সামরিক ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়।

স্কালোনি বলেন, “এটা শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছে, তা বদলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। ইতিহাসকে আমরা অবশ্যই স্মরণ করি, কিন্তু ফুটবলকে যুদ্ধের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়। যারা সেই সময়ে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি; এটি বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল, এর বেশি কিছু নয়।”

একদিকে বাংলাদেশের কোটি সমর্থকের ভালোবাসা, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কৌশলগত প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে সেমিফাইনালের আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই।

এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির কৌশল সফল হয়ে আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না, নাকি থমাস টুখেলের শিষ্যরাই শেষ হাসি হাসবে। বাংলাদেশের অগণিত আর্জেন্টিনা-সমর্থকের চোখও এখন সেই মহারণের দিকেই।