ডিডিএনে হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ, ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনকে ঘিরে অভিযান

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৩

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আলোচিত ব্যক্তি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের একাধিক দল।

জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অভিযানের শুরুতেই ডেভিড ইমনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পরে সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তবে রাত পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মো. মুসার ছেলে ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের পরিচিত নাম।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী (বড় সাজ্জাদ)-এর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি নগরের চকবাজার এলাকার ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালায়।

এ সময় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর হামলার অডিও রেকর্ড এবং সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এর পরপরই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে জেলা পুলিশের একাধিক টিম।

তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আটকের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে।