চট্টগ্রাম নগরীর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ জানায়, প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি কুখ্যাত ওই সন্ত্রাসী নন; তিনি রাউজানের এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
সোমবার (২২ জুন) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমনকে’ রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিছু পোস্টে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের নির্দেশনায় গুলশানের ‘আমারি ঢাকা’ হোটেলের ৯১ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এসব তথ্য সরাসরি নাকচ করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে “ডেভিড ইমনকে” গ্রেপ্তার করিনি। আমাদের গুলশানে অভিযান ছিল। তবে ইমন নামে কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর নাম মোহাম্মদ ইমন। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ২ নম্বর ডাবুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে। একটি সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে পুলিশ বলছে, প্রকৃত ‘ডেভিড ইমন’ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। মোবারক হোসেন ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
তিনি ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অবস্থান দুবাই বলে প্রচারিত হলেও তাঁকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ড প্রসঙ্গে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, ‘রাতে একটি ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আমি সরাসরি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তথ্যটি সত্য নয়।’
পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা তাঁকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এমন তথ্য ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাউজানে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ ইমনের সঙ্গে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনের’ কোনো সম্পর্ক নেই।
নামের মিল থেকেই এই বিভ্রান্তির জন্ম হয়েছে।

