ত্রাণে রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। অনিয়মের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে-বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এমন বার্তাই দিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৩ নম্বর খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বঢোমরা জলকদরের খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরে খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না।
কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তুলে ধরতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা করা হয়েছে বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মৎস্য খাত, কৃষি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজতলা তৈরি, বীজের চারা, বীজ ও সার সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে চলমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ যে খালটির পাশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন।
গত ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকায় খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।
মন্ত্রী জানান, খালটি পুনঃখনন শেষ হলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি খালের বাকি অংশের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল গড়ে তোলা হবে। বাঁশখালীর জলকদরের খালকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
