জুলাই আন্দোলন ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: এসপি মাসুদ আলম

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩২

জুলাই আন্দোলন কোনো একক দল, গোষ্ঠী বা শ্রেণির আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম।

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের অর্জন রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুকসহ সব শহীদের স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।

সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ। এর আগে সকালে জুলাই বিপ্লবে সব শহীদের স্মরণে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে মো. মাসুদ আলম বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

ওই বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবর্তন হতে থাকে আন্দোলনের স্লোগানও।

তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুক নিহত হওয়ার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুরুতে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল কোটা সংস্কার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলাতে থাকে।

২৩ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর একপর্যায়ে তা সাময়িকভাবে থেমে যায়। পরে আন্দোলন ঢাকার ডিবি কার্যালয়ের ‘ভাতের হোটেল’ পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখান থেকে ১ আগস্ট আবারও আন্দোলন রাজপথে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, এরপর সারা দেশে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন আসে। তখন আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ‘এক দফার’ আন্দোলনে রূপ নেয়।

জুলাই আন্দোলনের চেতনা প্রসঙ্গে এসপি মাসুদ আলম বলেন, আন্দোলনের পর দেশের বিভিন্ন দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্রে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, সাহস ও ভাবনা ফুটে উঠেছে।

তিনি বিশেষভাবে দুটি গ্রাফিতির কথা উল্লেখ করেন “যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ” এবং “যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ”। তাঁর ভাষায়, এই দুটি স্লোগান ভবিষ্যতে গবেষণার বিষয় হতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা যে ঐক্য, সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

শহীদদের স্মরণ করা শুধু দায়িত্ব নয়, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও সবাইকে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেটি ধরে রাখাও সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন-চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (সিএমইউজে) ও টাইম অব বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক সালে নোমান, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ, যুগ্ম সম্পাদক ও বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মো. আরিফ, অর্থ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আবুল হাসনাত, প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, দৈনিক ইনকিলাবের ডেপুটি ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক চট্টগ্রামের সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী, কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ফারুক মনির, সকালবেলা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান এমি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জোবাইর চৌধুরী এবং আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম কে মনির।