সীতাকুণ্ডে বাস উল্টে নিহত ১, আহত ৬: চাকরি পরীক্ষায় যাওয়ার পথে আহত অর্পিতা

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় আতঙ্কের পরিবেশ। উল্টে থাকা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (সকাল সাড়ে ৭টা) উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ইলিয়াস পেট্রলপাম্প এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ। তাঁর আনুমানিক বয়স ৩০ বছর। তবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

আহতরা হলেন রওশন আক্তার (৩৮), তাঁর ছোট ভাই মহিউদ্দিন (৩৩), মোহাম্মদ মান্নান (৩০), তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), অর্পিতা সাহা (২০) এবং আরিফ মো. ইউসুফ (৫১)।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, জোনাকী পরিবহন-এর বাসটি চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল। পথে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইলিয়াস পেট্রলপাম্প এলাকায় বিকট শব্দে বাসটি উল্টে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা যাত্রীদের অনেকেই ছাদ ও ইঞ্জিনের মাঝখানে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনায় আহত অর্পিতা সাহা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবা বাসুদেব সাহা জানান, অর্পিতার আজ একটি চাকরি পরীক্ষা ছিল।

সকালে সে জোনাকী পরিবহনের বাসে করে পরীক্ষা দিতে নোয়াখালী যাচ্ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে তাঁর মেয়ের হাত ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার সময় জোনাকী পরিবহনের বাসটি সড়কের ওপর উল্টে ছিল।

উদ্ধারকাজে গিয়ে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন বলে তিনি জানতে পারেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও নিরাপদ যানচালনার প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

যাত্রীদের মতে, নিয়ম মেনে ও সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।