প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মোদির ‘কঠোর অস্ত্র, শুক্রবার মন্ত্রিসভায় উঠছে খসড়া

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:১১

প্রশ্নপত্র ফাঁস-শুধু একটি পরীক্ষা ভেস্তে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম আর ভবিষ্যতের আশা।

সেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার আরও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইন আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি এ আইনের একটি খসড়া হাতে পেয়েছেন।

শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের পরামর্শ যুক্ত করে খসড়াটি চূড়ান্ত করার পর যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পার্লামেন্টে পাস করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদির এই ভিডিও বার্তা আসে।

তবে সরকারের এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

দলটি জানিয়ে দিয়েছে, বিচার দ্রুত করার আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি ভালোভাবেই জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়।

এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা চরম মানসিক কষ্টে পড়েন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মোদি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিরলসভাবে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে ইতিমধ্যে তাঁর কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

ওই খসড়ায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনসহ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে জানিয়ে মোদি বলেন, মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের পরামর্শ যুক্ত করে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পার্লামেন্টে পাস করার চেষ্টা করা হবে।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধ ঠেকাতে কঠোর আইন ও দ্রুত বিচারের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে।

এখন নজর শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রস্তাবিত নতুন আইন কতটা কঠোর হয় এবং তা কত দ্রুত পার্লামেন্টে পাস হয়-সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা।