যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা: সিসিটিভিতে শনাক্ত, সীতাকুণ্ডে ধরা পড়লেন দুই অস্ত্রধারী

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০৭

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় কথিত দুই ‘শুটার’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশের দাবি, তাঁরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল রোববার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দিদার আলম ও আবছার মিয়া ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে একই মামলায় ‘সন্ত্রাসী’ ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিদার আলমের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং আবছার মিয়ার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে।

মাসুদুল হক চৌধুরীকে কী কারণে এবং কার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে-সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন।

মাসুদুলের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পরবর্তী নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদুল।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মাসুদুল হককে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১৫ জুন নিহত মাসুদুল হক চৌধুরীর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন।

মামলায় বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাসুদুল হককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ ছিল। তবে অন্যদের চেহারা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।

মামলার তদন্তে ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ দিদার আলম ও আবছার মিয়াকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া আরও দুই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও নয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

রাউজানে মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং কার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশের পরবর্তী তদন্তে এ বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।