অন্তর্বাসে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ পাচার, শাহ আমানতে আটক ১

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩৮

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণসহ মোহাম্মদ তুসার (৩৩) নামে এক যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আটক মোহাম্মদ তুসার বাংলাদেশি নাগরিক। সোমবার দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। তাঁর বহন করা ফ্লাইটের নম্বর BG-148।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তুসারকে আগেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখেন কাস্টমস গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা।

পরে কাস্টমস হলে তুসারের দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া যায়।

জব্দ করা স্বর্ণের পেস্টের ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রাম। এর সঙ্গে ছিল প্যাকিং উপকরণ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি স্বর্ণের চুড়ি, যার মোট ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম।

সব মিলিয়ে তুসারের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম বা দেড় কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

উদ্ধার করা স্বর্ণের পেস্ট প্রাথমিকভাবে ২৪ ক্যারেটের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

অভিযানে তুসারের পাসপোর্ট, একটি রেডমি মুঠোফোন ও বোর্ডিং পাসও জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও তল্লাশি ব্যবস্থা এড়িয়ে স্বর্ণ দেশে আনার উদ্দেশ্যেই সেটিকে পেস্টে রূপান্তর করা হয়েছিল।

পরে ওই পেস্ট শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই নজরদারি থাকায় শেষ পর্যন্ত স্বর্ণ পাচারের এই কৌশল সফল হয়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩সহ প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

সন্দেহজনক যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।