আইনের চোখ ফাঁকি দিতে শিশুদের পেটেই ইয়াবা, চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১১

বয়স মাত্র ৯ ও ১২ বছর। অথচ এই দুই শিশুর পেটের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল হাজার হাজার ইয়াবা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তাদের ব্যবহার করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে দুই শিশুসহ এক নারীকে আটক করার পর বেরিয়ে আসে পাচারের এই ভয়ংকর কৌশল।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করে র‍্যাব-৭।

পরে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এক্স-রে পরীক্ষায় শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

এরপর শিশু দুটিকে চমেক হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের পেট থেকে ইয়াবার ক্যাপসুল বের করে আনা হয়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিশু দুটির পেট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। এসব ইয়াবা ক্যাপসুলের ভেতরে রাখা ছিল।

একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

শুধু এবারই নয়-এর আগেও তারা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে।

চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে পরীক্ষায় শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের পেট থেকে ধাপে ধাপে ক্যাপসুলগুলো বের করে আনা শুরু হয়।

রবিবার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী এক্স-রে পরীক্ষায় শিশু দুটির পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়।

শিশুদের এভাবে মাদক বহনে ব্যবহারের ঘটনায় শুধু পাচারের ভয়াবহতাই নয়, সামনে এসেছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

এ ঘটনায় সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক।