দাদাকে বাঁচাতে পুকুরে নেমেছিল দুই শিশু, একে একে নিভে গেল তিন প্রাণ

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৩

লক্ষ্মীপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের দাদা, নাতি ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, পানিতে ডুব দেওয়ার পর আবু সিদ্দিক (৭০) অসুস্থ হয়ে আর উঠতে পারেননি। দাদাকে খুঁজতে পানিতে নামার পর ডুবে যায় তার দুই নাতি-নাতনি পিয়াস (৮) ও পপি আক্তার (৬)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শাকচর এলাকায় ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির পুকুরে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে।

তার নাতি পিয়াস ছেলে আব্দুল আজিজের সন্তান এবং নাতনি পপি আক্তার মেয়ে সুমি আক্তারের সন্তান।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান।

একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুব দেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তাকে আর পানির ওপর উঠতে দেখা যায়নি।

দাদাকে পানিতে দেখতে না পেয়ে তাকে খুঁজতে পানিতে নামে পিয়াস ও পপি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারাও পানিতে ডুবে যায়।

পরে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে আবু সিদ্দিক, পিয়াস ও পপি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, আবু সিদ্দিক পানিতে ডুব দেওয়ার পর স্ট্রোক করে থাকতে পারেন। এ কারণে তিনি আর পানির ওপর উঠতে পারেননি। পরে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে দুই শিশু নাতি-নাতনিও পানিতে ডুবে মারা যায়।

একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।