লোহাগাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের ডেভিড আটক, সামনে এলো একের পর এক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৯

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘নতুন সংস্করণ’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কিশোর গ্যাং লিডার ডেভিড জিহাদকে আটক করেছে লোহাগাড়া থানা-পুলিশ।

রোববার রাতে উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে আটক করে।

ডেভিড জিহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহকে (১৫) স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল।

বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন সহকর্মী নাজিমকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন।

পরে তারা বটতলী স্টেশনের ইনসাফ রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে আবদুল্লাহর সহপাঠী ও ঘটনায় জড়িত আয়ানকে আটক করেন।

তবে আবদুল্লাহকে মারধরের সঙ্গে জড়িত অন্য কিশোরেরা তখন পালিয়ে যায়। পরে আয়ানকে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আয়ানকে পুলিশের কাছে দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের মুঠোফোনে হুমকিসংবলিত একটি কল আসে।

কলটির রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ডেভিড জিহাদ। আপনি থানায় গিয়ে মামলা দেন। আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ, আপনার ছেলে… আপনি ভুল জায়গায় হাত দিছেন, বুঝছেন!’

এই হুমকির ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যেই একই ঘটনার জের ধরে বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়কে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

এ সময় তাকে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের অন্তত পাঁচটি স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়।

ওই হামলায় ডেভিড জিহাদের নেতৃত্ব ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর নজরুল ইসলামের পরিবার বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লোহাগাড়া থানায় মামলা করে।

তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া অন্য কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর মধ্যেই রোববার রাতে আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড জিহাদকে আটক করে পুলিশ।

তার আটকের মধ্য দিয়ে শিক্ষককে হুমকি এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় তদন্তে নতুন করে গতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডেভিড জিহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এখন নজর ডেভিড জিহাদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে।