ইট, কাঠ আর কংক্রিটের জঙ্গল ভেদ করে চট্টগ্রাম নগরীতে নেমে এলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) এক নজিরবিহীন ‘অ্যাকশন ড্রাইভ’।
রাজকীয় নকশা ভেঙে সুবিধামতো বহুতল ভবন গড়ে তোলার অসাধু প্রতিযোগিতায় যারা ব্যস্ত ছিলেন, রোববারের সূর্য তাদের জন্য নিয়ে এলো বড় ধাক্কা!
নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে শহরতলিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে নকশাবহির্ভূত অনিয়মের দায়ে এক ভবন মালিককে গুনে গুনে গুনতে হয়েছে ২০ লাখ টাকা জরিমানা।
একই সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে ৩টি ভবন সিলগালা এবং আরও ৫টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সিডিএর দল।
রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর ব্যস্ততম কোতোয়ালি, ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এবং শিল্পাঞ্চল পাহাড়তলী থানা এলাকার মোট ৭টি স্পর্শকাতর ও ত্রুটিপূর্ণ ভবনে একযোগে এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের রাজপথ ও সরেজমিন পরিচালনায় ছিলেন সিডিএর চিফ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হাসান এবং অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন।
ইটের সঙ্গে গুঁড়িয়ে গেল অনিয়মের রাজত্ব:
অভিযানের প্রধান আকর্ষণ ছিল নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকা। সেখানে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মিত বহুতল ভবনের অতিরিক্ত ও অবৈধ অংশগুলো নিমেষেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুধু ভাঙচুরেই শেষ নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ হিসেবে ভবন মালিককে নগদ ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে ও অনুমোদিত নকশা মেনে ইমারত গড়ার কঠোর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান অভিযুক্তরা।
৮ তলার নকশায় ১১ তলার পাহাড়! পালাল মালিকপক্ষ:
অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দৃশ্যটি দেখা যায় অন্য একটি ভবনে। কাগজপত্রে যেখানে অনুমোদন ছিল মাত্র ৮ তলার, বাস্তবতায় সেখানে দাঁড়িয়ে গেছে রীতিমতো ১১ তলার এক দানবীয় ইমারত!
সিডিএর বিশাল লবহর নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পৌঁছামাত্রই চম্পট দেন ভবন মালিকপক্ষের সবাই। আইন লঙ্ঘন করে ঝুঁকি তৈরি করার এই অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়।
এছাড়াও, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ইমারত নির্মাণের শাস্তি হিসেবে আরও ৫টি ভবনের বিদ্যুৎসংযোগ অনতিবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তেই ওই এলাকাগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
অভিযান শেষে সিডিএর চিফ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হাসান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নগরীর নিরাপত্তা ও সুপরিকল্পিত বিকাশের স্বার্থে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং বেআইনি স্থাপনার বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স অভিযান থামবে না। চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য রাখতে এই অভিযান নিয়মিত চলবে।
অভিযানের এ কঠোর বার্তা ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামজুড়ে নকশা ভঙ্গকারী অসাধু আবাসন ব্যবসায়ীদের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।
