রঙ্গীখালী ক্যাম্প থেকে চিরবিদায়, পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন তিতাস শেখ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৬

দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখের (২৮)।

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিতাস শেখের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল।

এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়।

সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আফজাল হোসেন।

তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিতাস।

তবে তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান নেই। অল্প বয়সেই তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশা যেন মুহূর্তেই থমকে গেছে।

তিতাস শেখের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানীও সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাঁর মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্প থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর দায়িত্বের পথচলা। সেই পথচলার শেষ হলো এক মর্মান্তিক ঘটনায়।

এখন শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে এবং তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে অপেক্ষায় রয়েছেন গ্রামের স্বজন ও এলাকাবাসী।