back to top

ডিমের দাম খামার থেকে বাজার: সরবরাহ সংকট নাকি সিন্ডিকেট চাপ?

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ১৩:৩৫

চট্টগ্রামের বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম এখন আর “সস্তা প্রোটিন” হিসেবে থাকছে না। এক মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এপ্রিলের মাঝামাঝিতে যেখানে ডজন ১১০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা উঠেছে ১৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে এ দাম আরও চাপ তৈরি করছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের আড়তদার মারুফ হোসেন জানান, “গত এপ্রিল মাসে পাইকারিতে ডিম ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ১৪০ টাকায়। কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ২০–২৫ টাকা বেড়ে গেছে। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি।”

পাইকারি বাজারে বর্তমানে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০–১৪৫ টাকায়, আর খুচরায় তা পৌঁছেছে প্রায় ১৫০ টাকায়।

ব্যবসায়ী ও খামারিদের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের ডিম বাজারে অস্থিরতার পেছনে একাধিক চাপ কাজ করছে। বিশেষ করে ৫টি কারণেই দাম এত বেড়েছে।

এরমধ্যে উৎপাদন কমে যাওয়া ও খামার বন্ধ, সরবরাহে ব্যাঘাত ও সাময়িক সংকট, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে হঠাৎ উচ্চ চাহিদা।

খামারিরা বলছেন, দীর্ঘদিন কম দামে ডিম বিক্রি করে অনেক লেয়ার খামারি লোকসানে পড়েছেন। ফলে বহু ক্ষুদ্র খামার বন্ধ হয়ে গেছে, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি রোগবালাইয়ের কারণে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন আরও কমেছে।

পটিয়ার খামারি খেলন বিশ্বাস বলেন, “ফিডের দাম, বাচ্চা মুরগির দাম, ওষুধ—সবকিছু বেড়েছে। এখন কম দামে ডিম বিক্রি করা সম্ভব না।”

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে—এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ১ ডজন ডিম ১১০ টাকায় পাওয়া গেলেও
বর্তমানে ১ ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।

আড়তদারদের মতে, শুধু কয়েক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ২০–২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

মাছ ও মাংসের দাম আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে ডিমই ছিল তুলনামূলক সস্তা প্রোটিনের উৎস। কিন্তু সেই ডিমও এখন ক্রমেই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট চাপ—দৈনিক খাদ্য তালিকায় প্রোটিন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

খামারিদের বক্তব্যে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বাড়াই মূল কারণ। ফলে পুরো বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের চাপ ও অস্থিরতা।

চট্টগ্রামের ডিমের বাজার এখন আর স্থিতিশীল নেই। এক মাসের ব্যবধানে ৪০ টাকার লাফ শুধু দামের নয়—নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে।

“সস্তা প্রোটিন” হিসেবে পরিচিত ডিম এখন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।